ঢাকা, ২৪ মার্চ : আসন্ন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দিনব্যাপী উদযাপিত হবে এবারের পহেলা বৈশাখ। সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে আসন্ন পহেলা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট হলে বৈঠক হয়। বৈঠকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হচ্ছে না। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘নাম পরিবর্তন নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করিনি। গতকাল রোববারের মিটিং শেষে এ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। সেটিকে “মিসকোট” করে প্রচার করা হয়েছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের উদ্যাপনটা দুই দিনব্যাপী হবে। চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ দুটি উদ্যাপনই জাতীয়ভাবে আয়োজন করা হবে। এর মধ্যেই রয়েছে শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা নিয়ে ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এবারের পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মণিপুরি, সাঁওতাল ও গারোসহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষজন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যোগ দেবেন। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগান নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান। সবার অংশগ্রহণের ফলে এ বারের উদ্যাপন পূর্বের তুলনায় বৃহৎ ও রঙিন হবে।’
স্লোগান নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে প্রথম নববর্ষ এটি। ফ্যাসিবাদের অবসানের দিকে লক্ষ্য রেখে স্লোগান ঠিক করা হয়েছে—নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহার ইসলাম চঞ্চল বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আজকের সভায় প্রতিপাদ্য চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে কিছু কমিটি এবং উপকমিটি গঠনেরও কাজ চলছে। এ সংক্রান্ত একটি উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা। শোভাযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক চারুকলা অনুষদের ডিন। এ ছাড়া আরও কিছু কমিটি গঠনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan